ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম ফুসফুস বানালো রাজশাহীর তিন কিশোরী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ ২৫২ বার পড়া হয়েছে

২৫ জুন ২০১৯, আজকের মেঘনা ডটকম, ডেস্ক রিপোর্ট :

জাতীয় পর্যায়ের স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৮থতে অংশ নেয়া রাজশাহীর তিন কিশোরী কৃত্রিম ফুসফুস বানিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ তিন কিশোরী হলেন- রুমান্তা হোসেন মৌ, নাইমা আক্তার আঁখি ও বিপাশা খাতুন।

কৃত্রিম ফুসফুস আবিষ্কার একেবারেই নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়। এর আগে মানুষের কৃত্রিম ফুসফুস আবিষ্কার করে সারাবিশ্বে সাড়া যাগিয়ে ছিলেন বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন টুম্পা। তবে টুম্পার সঙ্গে রাজশাহীর তিন কিশোরীর পার্থক্য রয়েছে। তা হলো এরা কেউই বিজ্ঞানী না। এরা তিনজনেই মূলত কলেজ শিক্ষার্থী।

রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ছেন মৌ-আঁখি-বিপাশা। সেখানেই ক্লাসের ফাঁকে তিনজনে মিলে মানুষের জন্য কৃত্রিম ফুসফুস বানিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি খুবই উপযোগী ও সাশ্রয়ী একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এই ক্ষুদে উদ্ভাবকরা জানায়, তাদের এই যন্ত্র রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নলের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে সংযুক্ত করা সম্ভব। এখানে আলাদা করে কোনো অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হবে না। কারণ এটি প্রকৃতি থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করবে। এদিক থেকে প্রচলিত ভেন্টিলেটরের তুলনায় এটি আধুনিক।

মৌ বলেন, প্রচলিত ভেন্টিলেটরের দাম ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা। আমরা চেয়েছিলাম কম খরচে এই যন্ত্র তৈরি করতে। আমরা আশাবাদী যে, আমাদের যন্ত্রটি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা সম্ভব। দেশের মানুষের জন্য এই সামান্য কাজটুকু করতে পেরে আমরা অনেক বেশি আনন্দিত ও গর্বিত।

আঁখি ও বিপাশা বলেন, কলেজে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে পুরো কাজটি করেছি। এখন সবাই যেভাবে বাহবা দিচ্ছে সেটা আমাদের আরও অনেক স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এরপর আরও নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য চেষ্টা শুরু করব আমরা।

কেবল কৃত্রিম ফুসফুস নয়, জাতীয় পর্যায়ের স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৮‘তে প্রতিযোগিতায় জায়গা পেয়েছে আরও অনেক অভিনব উদ্ভাবন। যেখানে অ্যান্ড্রয়েড-এর সাহায্যে যুদ্ধজাহাজ চালনা, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, ফুড স্টোরেজ বাই সোলার রেফ্রিজারেশন, ডিজিটাল রেলওয়ে কন্ট্রোল সিস্টেম, প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল তৈরির কৌশল, স্মার্ট আরবান ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম, ব্রিক ফিল্ডস পলিউটেড এয়ার ফিল্টারিং, বর্ডার কন্ট্রোলার রোবট, চলমান যানবাহন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ জনকল্যাণমুখী উদ্ভাবনগুলো বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

রবিবার (১৬ জুন) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৮ ঘুরে দেখেন ।

পূর্বপশ্চিমবিডি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

ট্যাগস :

কৃত্রিম ফুসফুস বানালো রাজশাহীর তিন কিশোরী

আপডেট সময় : ০৮:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯

২৫ জুন ২০১৯, আজকের মেঘনা ডটকম, ডেস্ক রিপোর্ট :

জাতীয় পর্যায়ের স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৮থতে অংশ নেয়া রাজশাহীর তিন কিশোরী কৃত্রিম ফুসফুস বানিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ তিন কিশোরী হলেন- রুমান্তা হোসেন মৌ, নাইমা আক্তার আঁখি ও বিপাশা খাতুন।

কৃত্রিম ফুসফুস আবিষ্কার একেবারেই নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়। এর আগে মানুষের কৃত্রিম ফুসফুস আবিষ্কার করে সারাবিশ্বে সাড়া যাগিয়ে ছিলেন বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন টুম্পা। তবে টুম্পার সঙ্গে রাজশাহীর তিন কিশোরীর পার্থক্য রয়েছে। তা হলো এরা কেউই বিজ্ঞানী না। এরা তিনজনেই মূলত কলেজ শিক্ষার্থী।

রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ছেন মৌ-আঁখি-বিপাশা। সেখানেই ক্লাসের ফাঁকে তিনজনে মিলে মানুষের জন্য কৃত্রিম ফুসফুস বানিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি খুবই উপযোগী ও সাশ্রয়ী একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এই ক্ষুদে উদ্ভাবকরা জানায়, তাদের এই যন্ত্র রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নলের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে সংযুক্ত করা সম্ভব। এখানে আলাদা করে কোনো অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হবে না। কারণ এটি প্রকৃতি থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করবে। এদিক থেকে প্রচলিত ভেন্টিলেটরের তুলনায় এটি আধুনিক।

মৌ বলেন, প্রচলিত ভেন্টিলেটরের দাম ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা। আমরা চেয়েছিলাম কম খরচে এই যন্ত্র তৈরি করতে। আমরা আশাবাদী যে, আমাদের যন্ত্রটি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা সম্ভব। দেশের মানুষের জন্য এই সামান্য কাজটুকু করতে পেরে আমরা অনেক বেশি আনন্দিত ও গর্বিত।

আঁখি ও বিপাশা বলেন, কলেজে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে পুরো কাজটি করেছি। এখন সবাই যেভাবে বাহবা দিচ্ছে সেটা আমাদের আরও অনেক স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এরপর আরও নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য চেষ্টা শুরু করব আমরা।

কেবল কৃত্রিম ফুসফুস নয়, জাতীয় পর্যায়ের স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৮‘তে প্রতিযোগিতায় জায়গা পেয়েছে আরও অনেক অভিনব উদ্ভাবন। যেখানে অ্যান্ড্রয়েড-এর সাহায্যে যুদ্ধজাহাজ চালনা, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, ফুড স্টোরেজ বাই সোলার রেফ্রিজারেশন, ডিজিটাল রেলওয়ে কন্ট্রোল সিস্টেম, প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল তৈরির কৌশল, স্মার্ট আরবান ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম, ব্রিক ফিল্ডস পলিউটেড এয়ার ফিল্টারিং, বর্ডার কন্ট্রোলার রোবট, চলমান যানবাহন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ জনকল্যাণমুখী উদ্ভাবনগুলো বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

রবিবার (১৬ জুন) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৮ ঘুরে দেখেন ।

পূর্বপশ্চিমবিডি