ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুটি কবরস্থানে নেওয়া সেই নবজাতক হাত নাড়ছে কাঁচের ঘরে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০ ১৪২ বার পড়া হয়েছে
যে নবজাতককে দাফনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দুটি কবরস্থানে, সে এখন হাসপাতালের এনআইসিইউয়ের কাঁচ ঘেরা ঘরে হাত-পা নাড়ছে। 

বর্তমানে ওই নবজাতক ঢামেক হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের নবজাতক নিবিড় যত্ন ইউনিট (এনআইসিইউ) কাচের ঘরে রয়েছে। মুখে অক্সিজেন লাগানো অবস্থায় হাত-পা নাড়ছে সে।

এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে এক নবজাতকের জন্ম দেন শাহিনুর নামের এক নারী। জন্মের পরপরই ঐ নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে একটি প্যাকেটে ভরে শাহিনুরের স্বামী ইয়াসিনের কাছে হস্তান্তর করে চিকিৎসক জানান সন্তানটি মৃত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে।

হাসপাতাল কর্মচারিদের কথামতো সদ্যজাত সন্তানকে নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে যান ইয়াসিন। তবে অর্থসঙ্কট থাকায় শিশুটিকে নিয়ে যেতে বলা হয় অপেক্ষাকৃত কম খরচের রায়েরবাজার কবরস্থানে।

রায়েরবাজারে নিয়ে গেলে শিশুটির জন্য একটি কবর খোঁড়া হয়। সব প্রস্তুতি শেষ করে যখন কবরে রাখা হবে এমন সময় নড়ে ওঠে শিশুটিকে রাখা বাক্সটি। জীবনের অস্তিত্ব জানান দেয় নবজাতক। পরে সেখান থেকে নবজাতকে দ্রুত ঢামেকে নিয়ে আসেন ইয়াসিন।

বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে শিশুটি চিকিৎসাধীন আছে। সেখানের চিকিৎসকরা বলেছেন, নবজাতের অবস্থা তেমন ভালো না, যেকোনো সময় কিছু ঘটে যেতে পারে।

ইয়াসিন মোল্লা জানান, ঢামেক হাসপাতালে সন্তান জন্মের পরপরই সেখানের লোকজন হ্যান্ড গ্লাভস রাখার একটি খালি বড় প্যাকেটে ভরে নবজাতকটিকে মৃত বলে আমাকে দেন। সেই প্যাকেটটি নিয়েই আমি কবরস্থানে গিয়েছিলাম। সেখানে নড়ে ওঠে আমার নবজাতক সন্তান।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, নবজাতকটি জীবিত আছে। সে ভালো আছে ও তার চিকিৎসা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

ট্যাগস :

দুটি কবরস্থানে নেওয়া সেই নবজাতক হাত নাড়ছে কাঁচের ঘরে

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০
যে নবজাতককে দাফনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দুটি কবরস্থানে, সে এখন হাসপাতালের এনআইসিইউয়ের কাঁচ ঘেরা ঘরে হাত-পা নাড়ছে। 

বর্তমানে ওই নবজাতক ঢামেক হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের নবজাতক নিবিড় যত্ন ইউনিট (এনআইসিইউ) কাচের ঘরে রয়েছে। মুখে অক্সিজেন লাগানো অবস্থায় হাত-পা নাড়ছে সে।

এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে এক নবজাতকের জন্ম দেন শাহিনুর নামের এক নারী। জন্মের পরপরই ঐ নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে একটি প্যাকেটে ভরে শাহিনুরের স্বামী ইয়াসিনের কাছে হস্তান্তর করে চিকিৎসক জানান সন্তানটি মৃত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে।

হাসপাতাল কর্মচারিদের কথামতো সদ্যজাত সন্তানকে নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে যান ইয়াসিন। তবে অর্থসঙ্কট থাকায় শিশুটিকে নিয়ে যেতে বলা হয় অপেক্ষাকৃত কম খরচের রায়েরবাজার কবরস্থানে।

রায়েরবাজারে নিয়ে গেলে শিশুটির জন্য একটি কবর খোঁড়া হয়। সব প্রস্তুতি শেষ করে যখন কবরে রাখা হবে এমন সময় নড়ে ওঠে শিশুটিকে রাখা বাক্সটি। জীবনের অস্তিত্ব জানান দেয় নবজাতক। পরে সেখান থেকে নবজাতকে দ্রুত ঢামেকে নিয়ে আসেন ইয়াসিন।

বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে শিশুটি চিকিৎসাধীন আছে। সেখানের চিকিৎসকরা বলেছেন, নবজাতের অবস্থা তেমন ভালো না, যেকোনো সময় কিছু ঘটে যেতে পারে।

ইয়াসিন মোল্লা জানান, ঢামেক হাসপাতালে সন্তান জন্মের পরপরই সেখানের লোকজন হ্যান্ড গ্লাভস রাখার একটি খালি বড় প্যাকেটে ভরে নবজাতকটিকে মৃত বলে আমাকে দেন। সেই প্যাকেটটি নিয়েই আমি কবরস্থানে গিয়েছিলাম। সেখানে নড়ে ওঠে আমার নবজাতক সন্তান।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, নবজাতকটি জীবিত আছে। সে ভালো আছে ও তার চিকিৎসা চলছে।