ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জমির মালিকদের সাথে বিরোধ আনিরা ইন্টারন্যাশনালের, কঠোর অবস্থানে ইউএনও আতিকুল ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

জমির মালিকদের সাথে বিরোধ আনিরা ইন্টারন্যাশনালের, কঠোর অবস্থানে ইউএনও আতিকুল ইসলাম

শাহারুখ আহমেদ- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিন্নি পাড়া এলাকায় আমিরা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ স্থানীয় কিছু বাসিন্দার। ২০০৩ সাল থেকে একটু একটু করে গড়ে ওঠার চেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অল্প কিছুদিন যাবৎ উভয়পক্ষের অমীমাংসিত কিছু বিষয় নিয়ে প্রায়শই নানান ধরনের প্রতিবাদ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাছাড়া উক্ত পক্ষদ্বয় ব্যতীত একই বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণ ও সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মনে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ আশরাফ (৪৩) একই ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগকারীদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির দাবীকৃত এরিয়ার মধ্যে মৃত তমিজউদ্দিন সরকারের ছেলে ইব্রাহিম হাসান, মহব্বত আলীর ছেলে আনোয়ার, সংসর আলীর ছেলে শহীদ, ওয়ারিস প্রধানের ছেলে মানিক, আনু মুন্সির ছেলে কাউসার, মুকবিল বেপারীর ছেলে আয়েব আলী, সালাউদ্দিন মুন্সির ছেলে আজিজুল, জয়নালের ছেলে মমিন ও হাসান আলী সরকারের ছেলে মোশাররফ সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজনের জায়গা অনুমতি ছাড়া বালুভরট সহ দেয়াল স্থাপন করে নিজেদের আওতাভুক্ত করে নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা গেইট বন্ধ রাখে, কখনোবা ডগ স্কট বা পালিত কুকুর দিয়ে তারা করা সহ নানান প্রক্রিয়ায় ভয় দেখায়, এমনকি নিজেদের জমি ফেরত চাইতে আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। অবশেষে কূলকিনারা না পেয়ে থানা, উপজেলা প্রশাসন এমনকি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সহযোগিতার দরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানায় অভিযোগকারী বাসিন্দাগন।

প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ আশরাফ বলেন, এ সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাদের আওতাধীন জমির মধ্যে পার্সেন্টেজ হিসেবে শতকরা ৯৬/৯৭ পারসেন্ট জমির ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমিগুলো অমীমাংসিত থাকার কারণ হলো মালিকগণ নিজেদের সিদ্ধান্তের উপর স্থির নয়। জমি বায়না কালে যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল পরবর্তীতে জমি ভরটের পর লোভের তারণায় পূর্বের কথা ভঙ্গ করে তারা অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত মূল্য দাবি করছে। এমনকি তাদের দাবি পূরণের জন্য স্থানীয় ওলিদ গ্যাং ও সজীব গ্যাং এর মত একাধিক সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে প্রতিষ্ঠান উপর হামলা করতে সক্রিয়ভাবে পরিকল্পনা করে যাচ্ছে এবং সন্ত্রাস বাহিনীদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নারী শ্রমিকদেরকে নানা ধরনের যৌন হয়রানি ও অশ্লীল আচরণের দ্বারা দৈনিক ইভটিজিং করানো হচ্ছে। এমনকি সন্ত্রাসীরা রীতিমতো চাঁদা দাবি করছে অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের ওপর মারাত্মক হামলা হবে বলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক নানান দপ্তর সহ সকলের নিকট আমার নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমি যদি দখল করেই রাখতাম তাহলে এত বছর তারা কেনো চুপ ছিল আর এখনই বা কেন তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য আমি প্রশাসন ও সচেতন জনগনের প্রতি বিনীত আহবান জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক আইন মেনে চলতে হবে এবং জনগণকেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে তাহলে সমাধান অনিবার্য। তবে বিষয়টি বড় আকারে ধারণ করার আগেই দু’পক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে উভয়পক্ষের মঙ্গল সাধন ও ইনসাফ রক্ষায় লক্ষ্য রাখবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশানুসারে দেশের একজন নাগরিকও যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত নাহয়, সেদিক বিবেচনা করে আমি নিজেই একটি টিম নিয়ে অভিযোগকারীদের সাথে দেখা করেছি, প্রতিষ্ঠানের সমালোচিতো জায়গায় গিয়ে পর্যবেক্ষন করেছি ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় মিডিয়া কভারেজ করে বিষয়গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি আশাবাদী উভয় পক্ষই সমাধানের দিকে এগিয়ে আসবে, আর আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

ট্যাগস :

জমির মালিকদের সাথে বিরোধ আনিরা ইন্টারন্যাশনালের, কঠোর অবস্থানে ইউএনও আতিকুল ইসলাম

আপডেট সময় : ১১:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

জমির মালিকদের সাথে বিরোধ আনিরা ইন্টারন্যাশনালের, কঠোর অবস্থানে ইউএনও আতিকুল ইসলাম

শাহারুখ আহমেদ- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিন্নি পাড়া এলাকায় আমিরা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ স্থানীয় কিছু বাসিন্দার। ২০০৩ সাল থেকে একটু একটু করে গড়ে ওঠার চেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অল্প কিছুদিন যাবৎ উভয়পক্ষের অমীমাংসিত কিছু বিষয় নিয়ে প্রায়শই নানান ধরনের প্রতিবাদ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাছাড়া উক্ত পক্ষদ্বয় ব্যতীত একই বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণ ও সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মনে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ আশরাফ (৪৩) একই ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগকারীদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির দাবীকৃত এরিয়ার মধ্যে মৃত তমিজউদ্দিন সরকারের ছেলে ইব্রাহিম হাসান, মহব্বত আলীর ছেলে আনোয়ার, সংসর আলীর ছেলে শহীদ, ওয়ারিস প্রধানের ছেলে মানিক, আনু মুন্সির ছেলে কাউসার, মুকবিল বেপারীর ছেলে আয়েব আলী, সালাউদ্দিন মুন্সির ছেলে আজিজুল, জয়নালের ছেলে মমিন ও হাসান আলী সরকারের ছেলে মোশাররফ সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজনের জায়গা অনুমতি ছাড়া বালুভরট সহ দেয়াল স্থাপন করে নিজেদের আওতাভুক্ত করে নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা গেইট বন্ধ রাখে, কখনোবা ডগ স্কট বা পালিত কুকুর দিয়ে তারা করা সহ নানান প্রক্রিয়ায় ভয় দেখায়, এমনকি নিজেদের জমি ফেরত চাইতে আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। অবশেষে কূলকিনারা না পেয়ে থানা, উপজেলা প্রশাসন এমনকি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সহযোগিতার দরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানায় অভিযোগকারী বাসিন্দাগন।

প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ আশরাফ বলেন, এ সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাদের আওতাধীন জমির মধ্যে পার্সেন্টেজ হিসেবে শতকরা ৯৬/৯৭ পারসেন্ট জমির ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমিগুলো অমীমাংসিত থাকার কারণ হলো মালিকগণ নিজেদের সিদ্ধান্তের উপর স্থির নয়। জমি বায়না কালে যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল পরবর্তীতে জমি ভরটের পর লোভের তারণায় পূর্বের কথা ভঙ্গ করে তারা অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত মূল্য দাবি করছে। এমনকি তাদের দাবি পূরণের জন্য স্থানীয় ওলিদ গ্যাং ও সজীব গ্যাং এর মত একাধিক সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে প্রতিষ্ঠান উপর হামলা করতে সক্রিয়ভাবে পরিকল্পনা করে যাচ্ছে এবং সন্ত্রাস বাহিনীদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নারী শ্রমিকদেরকে নানা ধরনের যৌন হয়রানি ও অশ্লীল আচরণের দ্বারা দৈনিক ইভটিজিং করানো হচ্ছে। এমনকি সন্ত্রাসীরা রীতিমতো চাঁদা দাবি করছে অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের ওপর মারাত্মক হামলা হবে বলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক নানান দপ্তর সহ সকলের নিকট আমার নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমি যদি দখল করেই রাখতাম তাহলে এত বছর তারা কেনো চুপ ছিল আর এখনই বা কেন তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য আমি প্রশাসন ও সচেতন জনগনের প্রতি বিনীত আহবান জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক আইন মেনে চলতে হবে এবং জনগণকেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে তাহলে সমাধান অনিবার্য। তবে বিষয়টি বড় আকারে ধারণ করার আগেই দু’পক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে উভয়পক্ষের মঙ্গল সাধন ও ইনসাফ রক্ষায় লক্ষ্য রাখবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশানুসারে দেশের একজন নাগরিকও যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত নাহয়, সেদিক বিবেচনা করে আমি নিজেই একটি টিম নিয়ে অভিযোগকারীদের সাথে দেখা করেছি, প্রতিষ্ঠানের সমালোচিতো জায়গায় গিয়ে পর্যবেক্ষন করেছি ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় মিডিয়া কভারেজ করে বিষয়গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি আশাবাদী উভয় পক্ষই সমাধানের দিকে এগিয়ে আসবে, আর আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবো।