ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চার দফা বন্যার পরও বেড়েছে আগাম আমনের আবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২০ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলে চার দফা বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আগাম আমনের বীজতলাসহ রোপণ করা ধানও। ওই সময় আগাম আমন আবাদ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন খোদ কৃষি কর্মকর্তারাই। তবে নানা সংকট কাটিয়ে চলতি মৌসুমে ৪৮ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে আগাম আমনের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন হাজার হেক্টর বেশি।

কৃষি বিভাগের দাবি, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯২ টন চাল পাওয়া যাবে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হচ্ছে ৩ দশমিক ১৬ টন। দু-একদিনের মধ্যে বাকি ২২৮ হেক্টর জমির ধানা কাটা হবে। তবে দফায় দফায় বন্যার কারণে আগাম ধানের আবাদ কম হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম জাতের ধান স্বল্প সময়ে ঘরে তোলা যায়। ফলে বাজারে দামও বেশি পাওয়া যায়। ধান কাটার পর একই জমিতে একাধিক রবিশস্য আবাদ করে বাড়তি আয় হয় কৃষকদের।

এদিকে চলতি বছর বেশকিছু হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের আগাম ধান কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। উফশী জাতের মধ্যে আছে ব্রি-৩৩, ৩৯, ৫৬, ৫৭, ৬৬, ৬৯, ৭২, ৭৩, ৭৫ এবং পূর্বাচী (স্থানীয় চায়না জাত) এছাড়া স্বর্ণার কিছু জাত। হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে বিএডিসির এসএল এইট এইচ, এসিআই, হিরা, ইস্পাহানি, ধানি গোল্ড, রূপসী বাংলা, সোনার বাংলা, জাগরণ, টিয়া, ময়না, আলোড়ন, সাথী, শক্তি, সম্পদ, ব্যাবিলন তিন পাতা অন্যতম। জমিতে বীজ বপন থেকে ফলন পাওয়া পর্যন্ত আগাম জাতের ধানে সময় লাগে ১০০-১২০ দিন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে স্বল্পমেয়াদি ধানের আবাদ হয়েছে মোট ৪৮ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট কর্তনকৃত জমির পরিমাণ ৪৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ৮ হাজার ৭২৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৭ হাজার ৬০০, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ৭৮০, লালমনিরহাটে ১০ হাজার ২১৫ ও নীলফামারীতে ১৫ হাজার ২১০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। গত বছর রংপুর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি ধানের আবাদ হয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

নীলফামারীর সদর উপজেলার চরাই খোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসূনিয়া বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে (৩৩ শতকে ১ বিঘা) আগাম স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের আবাদ করেছি। বীজতলায় ২০ দিন রাখার পর ধানের চারা অন্য স্থানে আরো ২০ দিন রেখে মূল জমিতে রোপণ করেছি। ২ নভেম্বর ১১৫ দিনে ফলন ঘরে তুলেছি। বিঘাপ্রতি ১৪-১৫ মণ ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। এ বছর কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ১ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।

রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের ভুরাঘাট এলাকার কৃষক আকমল হোসেন বলেন, চলতি বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আমন আবাদের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বারবার বন্যার কারণে মাত্র দেড় দোন (৩৬ শতক) জমিতে ধানি গোল্ড জাতের ধানের আবাদ করেছি। পাঁচদিন আগে ধান কেটে ঘরে তুলেছি। ফলন পেয়েছি প্রায় ৩০ মণ। এ জন্য খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা।

রংপুর, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকায়। গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ ধান বিক্রি হয় ৭০০ টাকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেজবাহুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, বিশেষ করে আগাম আমন ধান বছরের আশ্বিন ও কার্তিক মাসের অভাব তাড়াতে কৃষকদের ব্যাপক সহায়তা করছে। এ ধান ঘরে তুলে কৃষকরা আগাম আলু, সরিষা অথবা শাকসবজির আবাদ করবেন। তবে দফায় দফায় বন্যার কারণে অনেক কৃষক আগাম ধান আবাদ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা না হলে আবাদের পরিমাণ আরো বাড়ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

ট্যাগস :

চার দফা বন্যার পরও বেড়েছে আগাম আমনের আবাদ

আপডেট সময় : ০৫:১৬:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২০

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলে চার দফা বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আগাম আমনের বীজতলাসহ রোপণ করা ধানও। ওই সময় আগাম আমন আবাদ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন খোদ কৃষি কর্মকর্তারাই। তবে নানা সংকট কাটিয়ে চলতি মৌসুমে ৪৮ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে আগাম আমনের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন হাজার হেক্টর বেশি।

কৃষি বিভাগের দাবি, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯২ টন চাল পাওয়া যাবে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হচ্ছে ৩ দশমিক ১৬ টন। দু-একদিনের মধ্যে বাকি ২২৮ হেক্টর জমির ধানা কাটা হবে। তবে দফায় দফায় বন্যার কারণে আগাম ধানের আবাদ কম হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম জাতের ধান স্বল্প সময়ে ঘরে তোলা যায়। ফলে বাজারে দামও বেশি পাওয়া যায়। ধান কাটার পর একই জমিতে একাধিক রবিশস্য আবাদ করে বাড়তি আয় হয় কৃষকদের।

এদিকে চলতি বছর বেশকিছু হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের আগাম ধান কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। উফশী জাতের মধ্যে আছে ব্রি-৩৩, ৩৯, ৫৬, ৫৭, ৬৬, ৬৯, ৭২, ৭৩, ৭৫ এবং পূর্বাচী (স্থানীয় চায়না জাত) এছাড়া স্বর্ণার কিছু জাত। হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে বিএডিসির এসএল এইট এইচ, এসিআই, হিরা, ইস্পাহানি, ধানি গোল্ড, রূপসী বাংলা, সোনার বাংলা, জাগরণ, টিয়া, ময়না, আলোড়ন, সাথী, শক্তি, সম্পদ, ব্যাবিলন তিন পাতা অন্যতম। জমিতে বীজ বপন থেকে ফলন পাওয়া পর্যন্ত আগাম জাতের ধানে সময় লাগে ১০০-১২০ দিন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে স্বল্পমেয়াদি ধানের আবাদ হয়েছে মোট ৪৮ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট কর্তনকৃত জমির পরিমাণ ৪৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ৮ হাজার ৭২৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৭ হাজার ৬০০, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ৭৮০, লালমনিরহাটে ১০ হাজার ২১৫ ও নীলফামারীতে ১৫ হাজার ২১০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। গত বছর রংপুর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি ধানের আবাদ হয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

নীলফামারীর সদর উপজেলার চরাই খোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসূনিয়া বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে (৩৩ শতকে ১ বিঘা) আগাম স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের আবাদ করেছি। বীজতলায় ২০ দিন রাখার পর ধানের চারা অন্য স্থানে আরো ২০ দিন রেখে মূল জমিতে রোপণ করেছি। ২ নভেম্বর ১১৫ দিনে ফলন ঘরে তুলেছি। বিঘাপ্রতি ১৪-১৫ মণ ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। এ বছর কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ১ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।

রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের ভুরাঘাট এলাকার কৃষক আকমল হোসেন বলেন, চলতি বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আমন আবাদের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বারবার বন্যার কারণে মাত্র দেড় দোন (৩৬ শতক) জমিতে ধানি গোল্ড জাতের ধানের আবাদ করেছি। পাঁচদিন আগে ধান কেটে ঘরে তুলেছি। ফলন পেয়েছি প্রায় ৩০ মণ। এ জন্য খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা।

রংপুর, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকায়। গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ ধান বিক্রি হয় ৭০০ টাকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেজবাহুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, বিশেষ করে আগাম আমন ধান বছরের আশ্বিন ও কার্তিক মাসের অভাব তাড়াতে কৃষকদের ব্যাপক সহায়তা করছে। এ ধান ঘরে তুলে কৃষকরা আগাম আলু, সরিষা অথবা শাকসবজির আবাদ করবেন। তবে দফায় দফায় বন্যার কারণে অনেক কৃষক আগাম ধান আবাদ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা না হলে আবাদের পরিমাণ আরো বাড়ত।