ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উন্নতির সোপান থেকে মহামারী যেন ফেলে না দেয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

২২ জুন ২০২১, আজকের মেঘনা. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠতে যাওয়া বাংলাদেশের মতো দেশগুলো উত্তরণের পথে মহামারীর প্রভাবে যেন ছিটকে না পড়ে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কাতার ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া এক ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি। তিনব্যাপী এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার তার ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। ব্লুমবার্গের সহায়তায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সোমবারই শুরু হয়।

ভাষণে শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দেন। মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ছয়টি পরামর্শ দেন তিনি।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অর্জনে আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল বিভাজন এড়াতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের উপর জোর দেন তিনি। বিশ্ব বাণিজ্য ও রপ্তানি আয় আগের অবস্থায় ফেরাতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে সেসব ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থা ফেরাতে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। মহামারীকালে কাতারের এই আয়োজনকে সময়োগযোগী অভিহিত করে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বকে বিভিন্ন দিক থেকে ধাক্কা দিয়েছে। এটি এরই মধ্যে বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

এই কঠিন সময়ে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা দৃঢভাবে বিশ্বাস করি যে কোভিড-১৯ টিকাগুলোর মালিকানা বিশ্ববাসী সবার হওয়া উচিৎ। উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর যাদের সক্ষমতা রয়েছে, তাদের এই টিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া উচিৎ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাতার অর্থনৈতিক ফোরাম এমন এক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে মহামারীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগগুলো চিহ্নিত করে যাবে, পাশপাশি ভবিষ্যতের সঙ্কটগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা যাবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের চিত্র এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা কাতারের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বিনিয়োগের জন্য অবকাঠামো, তথ্য প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ শিল্প, পাট ও কৃষিজাত শিল্প খাতগুলোও দেখিয়ে দেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

ট্যাগস :

উন্নতির সোপান থেকে মহামারী যেন ফেলে না দেয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

২২ জুন ২০২১, আজকের মেঘনা. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠতে যাওয়া বাংলাদেশের মতো দেশগুলো উত্তরণের পথে মহামারীর প্রভাবে যেন ছিটকে না পড়ে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কাতার ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া এক ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি। তিনব্যাপী এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার তার ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। ব্লুমবার্গের সহায়তায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সোমবারই শুরু হয়।

ভাষণে শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দেন। মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ছয়টি পরামর্শ দেন তিনি।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অর্জনে আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল বিভাজন এড়াতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের উপর জোর দেন তিনি। বিশ্ব বাণিজ্য ও রপ্তানি আয় আগের অবস্থায় ফেরাতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে সেসব ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থা ফেরাতে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। মহামারীকালে কাতারের এই আয়োজনকে সময়োগযোগী অভিহিত করে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বকে বিভিন্ন দিক থেকে ধাক্কা দিয়েছে। এটি এরই মধ্যে বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

এই কঠিন সময়ে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা দৃঢভাবে বিশ্বাস করি যে কোভিড-১৯ টিকাগুলোর মালিকানা বিশ্ববাসী সবার হওয়া উচিৎ। উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর যাদের সক্ষমতা রয়েছে, তাদের এই টিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া উচিৎ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাতার অর্থনৈতিক ফোরাম এমন এক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে মহামারীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগগুলো চিহ্নিত করে যাবে, পাশপাশি ভবিষ্যতের সঙ্কটগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা যাবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের চিত্র এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা কাতারের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বিনিয়োগের জন্য অবকাঠামো, তথ্য প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ শিল্প, পাট ও কৃষিজাত শিল্প খাতগুলোও দেখিয়ে দেন তিনি।